Biplab Bhattacharya
"অপ্রিয় সত্য কথা বলতে নেই" - এই কথা মেনে চলার মতো "সুবোধ" মানুষ আমি নই, তাই কথাটা সোজাসুজিই বলে ফেলা যাক.....
MP ইদ্রিশ আলি আবার নিজেকে মুর্খ এবং অভদ্র প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন, তিনি উচ্ছন্নে যান, কারুর কিছু যায় আসেনা....কিন্তু তাঁর কুরুচিকর মন্তব্য এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গী যখন বৈদ্যুতিন মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে সারা ভারতবর্ষের সামনে এসে যাচ্ছে, যা আমাদের সংস্কৃতিকে বিপন্নতার খাদের ধারে এনে ফেলেছে, তখন তো ঘুরে দাঁড়াতেই হয়.....লোকটির বা "বস্তু"টির লজ্জাশরম আছে বলে মনে হয়না, কিন্তু তার দল? দলের সুপ্রিমো? সবার কি একসাথেই দু'কান কাটা গেছে?!
আপত্তির জায়গা শুধু কোনো ব্যক্তিবিশেষকে আক্রমণের নিশানা করা হয়েছে বলে নয়, আমার প্রতিবাদ এই অসভ্য রাজনৈতিক বাচালতাকে আমাদের কৃষ্টি সংস্কৃতির মধ্যে প্রোথিত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে.....লজ্জিত হোন তৃনমূল সুপ্রিমো, অন্যের জন্য নয়, নিজের জন্যই হোন.....ইদ্রিশ আলী'র মতো লোকজন আপনার আশেপাশে - আমরা আপনার জন্য সত্যিই শঙ্কিত....
কিন্তু এই ইদ্রিশ আলী'দের উত্থানের জন্য কম. বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য তথা বিগত বামফ্রন্ট সরকারও তাঁদের দায়ীত্ব অস্বীকার করতে পারেননা....একটু পিছনে তাকান; তসলিমা নাসরিনকে কলকাতা ছাড়া করার জন্য যে মৌলবাদী আক্রমণ শানানো হয়েছিল এবং কলকাতার রাস্তাকে দুর্বৃত্ত আর দাঙ্গাবাজদের মুক্তকচ্ছ হামলা আর অসভ্যতার সাক্ষী হতে হয়েছিল, সেদিন এই লোকটি ওই উন্মত্ত জনতাকে উস্কানি ও নেতৃত্ব দিয়েছিলো (যা ফৌজদারী অপরাধ হিসাবেই গণ্য হওয়া উচিৎ) এবং তৎকালীন সরকার তাকে সবক না শিখিয়ে তসলিমাকেই পরোক্ষে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করায়, দুর্বিনীত বেপরোয়া শক্তি সাহস পেয়ে গেছিলো এবং আজ তাই ইদ্রিশ আলী কুকথার ধারাবৃষ্টির হিম্মত দেখাতে পারে....দোহাই; ওই "কি করা যেতো? গুলি করে ৪০-৫০ জন মানুষকে মেরে দিতে হোত?" - ইত্যাদি মার্কা অজুহাত বা কারণ দেখাবেন না....."আইন, আইনের পথে চলবে" - এই মতবাদে বিশ্বাস করেন আপনারা এবং সেই অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া আইনানুগ হোত, সেটাই করা উচিৎ ছিলো না কি? তাহলে তো আর এই বিষাক্ত আগাছার বিষবাষ্পে শ্বাস নিতে হোতনা.....
শুধু সমালোচনা নয়, দলমত নির্বিশেষে এই অসভ্য বর্বরতাকে প্রতিহত করা এবং এই আগাছা সমূলে উৎপাটিত করা আশু প্রয়োজন এবং এই কাজে সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের এগিয়ে আসাটাই আজকের সময়ের দাবী.....
Biplab Bhattacharya added 2 new photos.
আমার এই লেখাটি আজ (০৭/০১/২০১৬) "এই সময়" পত্রিকাতে বেরিয়েছে....সাথীরা পড়ে মতামত জানালে ভালো লাগবে....বিতর্ক বা সমালোচনা স্বাগত.....
____________________________________________________
____________________________________________________
এই পত্রিকায় গত ২৯/১২/২০১৫ তারিখে প্রকাশিত শুভময় মৈত্র'র প্রবন্ধ "আসামে এগিয়ে বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল" সম্বন্ধে দু' এক কথা:
এই বছরে অনুষ্ঠিতব্য যে'কটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বচন হওয়ার কথা পশ্চিমবঙ্গ তার মধ্যে অন্যতম এবং এই মুহুর্তে তার দিকে তাকিয়ে, শুধু বাংলার মানুষই নয়, সারা ভারতবর্ষ। কারণ, এই বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই নানান কথাবার্তা এবং যোগ-বিয়োগের অঙ্ক সামনে রেখে চায়ের কাপেই শুধু নয়, ব্যাপকভাবে মিডিয়াতে, বিশেষত: সোশ্যাল মিডিয়াতে, আলোচনা শুরু হয়ে গেছে - যার ফলস্বরূপ অধুনা সংগঠিত বহুচর্চিত সিপিআই(এম)'র plenum এও এই নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে। কিন্তু প্লেনাম সংক্রান্ত কোনরূপ আলোচনা আমার প্রতিপাদ্য নয়; আমরা আলোচনার ক্ষেত্র হিসাবে উপরোক্ত দুটি প্রবন্ধের মধ্যেকার বিষয়সমূহকেই বেছে নেবো।
যে অঙ্কের সহজ গাণিতিক নিয়মানুযায়ী দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, যে আগামী বিধানসভায় বামেদের বা অন্য "বিরোধী"দের থেকে তৃণমূল অনেকটা এগিয়ে; আমার মনে হচ্ছে, এটা অতীব সরলীকরণ হয়েছে। একটা কথা ভুলে গেলে চলবেনা, রাজনীতি বা বিশেষ করে আমাদের দেশের নির্বাচনের ফল শুধুই পাটিগণিত দিয়ে কখনো নির্ণীত হতে দেখা যায়নি। একদম হাতেগরম উদাহরণ হিসাবে দেখা যেতে পারে শেষ বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে, যেখানে গণনার দিন সকাল অব্দি শুধু অঙ্কের হিসাবেই নয় এমনকি নির্বাচন-পূর্ব এবং নির্বাচনোত্তর বুথ-ফেরৎ বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী বিজেপি-কে Clear winner হিসাবে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ফলাফল আজ আমাদের সামনে - যা সমস্ত যোগ-বিয়োগের অঙ্ককে ভুল প্রতিপন্ন করে ছেড়েছে।
মূল প্রশ্নে আসা যাক; লেখক তাঁর মতের সপক্ষে ২ টি তথ্য-সারণী দিয়েছেন, আমি তার সাথে আরো একটি যোগ করলাম, ২০০৯ এর লোকসভা নির্বাচনের ফল অনুযায়ী প্রধান দলগুলোর প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ও ভোটপ্রাপ্তির শতাংশ হার - যা আমাদের আলোচনার জন্য কিছু যুক্তি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে বলেই মনে হয়।
মূল প্রশ্নে আসা যাক; লেখক তাঁর মতের সপক্ষে ২ টি তথ্য-সারণী দিয়েছেন, আমি তার সাথে আরো একটি যোগ করলাম, ২০০৯ এর লোকসভা নির্বাচনের ফল অনুযায়ী প্রধান দলগুলোর প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ও ভোটপ্রাপ্তির শতাংশ হার - যা আমাদের আলোচনার জন্য কিছু যুক্তি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে বলেই মনে হয়।
উপরের তথ্যগুলোর দিকে তাকালে কতগুলো জিনিস পরিস্কার; কংগ্রেস একা লড়লে ৮-৯% এর মধ্যে ভোট ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে এবং সেটা আগামীদিনেও রাখতে পারবে বলেই মনে হয়, অন্যদিকে খুব ভালো ফল করলেও তৃণমূলের ভোট ৩৯% বেশী কোনমতেই হওয়া সম্ভব হবেনা এবং খারাপ ফল হলে সেটা ৩০% নিচে চলে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এখানে সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হোলো বামফ্রন্টের এবং বিজেপি'র ফলাফল। একমাত্র অঘটনের ২০১৪ -র লোকসভা নির্বাচন বাদে এটা বোঝা যায় যে বামফ্রন্টের ভোট প্রায় ৪০% আশেপাশেই আছে এবং অন্যদিকে বিজেপি'র যে ৫% এর মত ভোট, তা ২০১৪ য় হঠাৎ করেই এক লাফে ১৭.০২% পৌঁছে গেছিলো এবং সেটা হয়েছিল মূলত: বামফ্রন্টের ভোট কেটেই। এখন যখন তথাকথিত "ঝড়" অবলুপ্ত, তখন যে প্রায় ১৩% এর মত ভোট বিজেপি'র ঝুলিতে চলে গেছিল তার অনেকটাই আবার ফিরে আসার সম্ভাবনা এবং "তৃনমূল বিরোধী" হওয়ার দরুণ সেটা বামফ্রন্টের পক্ষেই যাবে বলে মনে হয়।
এর সাথেই লক্ষ্য করতে হবে; গত লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরে বামফ্রন্ট এখন অনেক বেশী সচল। সারদা কেলেঙ্কারী, কৃষক আত্মহত্যা, মহিলা নির্যাতন, গনতান্ত্রিক অধিকার হরণ, তৃনকর্মীদের ব্যাপক সন্ত্রাস ইত্যাদি ইস্যুকে সামনে রেখে বেশ কিছু প্রোগ্রাম নেওয়ার ফলে বামফ্রন্ট এখন কিছুটা জেগে ওঠার প্রক্রিয়াতে। গত বেশ কিছুদিন যাবৎ; নবান্ন ঘেরাও, লালবাজার অভিযান, সারা রাজ্য জুড়ে "জাঠা" কর্মসূচী ও সর্বোপরী সিপিআই(এম) পার্টি'র Plenum উপলক্ষে সম্মানজনক ব্রিগেড সমাবেশের ফলে বামফ্রন্ট এখন অনেক বেশী প্রাণবন্ত, যা মানুষের মনের "প্রতিষ্ঠান বিরোধী" মানসিকতাকে বামফ্রন্টের ভোটবাক্সে টেনে আনার ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করতে পারে। লেখক যেমন তাঁর প্রবন্ধে কিছু "যদি"র উল্লেখ করেছেন, আমিও তেমনই কিছু "সম্ভাবনা"র কথা উল্লেখ করলাম মাত্র।
সুতরাং শুধুমাত্র সংখ্যা'র উপর নির্ভর করে অঙ্ক কষে এখনই ফলাফল ঘোষণা করে ফেলার ক্ষেত্রে বিচ্যুতির সম্ভাবনাই বেশী। এই মুহুর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক যে অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং তার যা গতিপ্রকৃতি তাতে আরো অনেক ওঠানামা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য অপেক্ষা করে আছে বলেই আশা করা যায়।

No comments:
Post a Comment