বন্ধু, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
কিছু কিছু সময় আসে, যখন সুপ্ত মনের জড়তা ভেঙ্গে জেগে ওঠার সময়, বন্ধ মনের আগলটা হেঁচকা টানে ভেঙে ফেলার সময়, হাজার রকমের পিছুটান ছেড়ে বিবেকের ডাকে সাড়া দেবার সময়। আজ আমরা সেরকমই একটা সময়ের মুখোমুখি।
ডাঃ আর. আহমেদ ডেন্টাল কলেজে All India DSO সমর্থক চারজন জুনিয়ার ডাক্তার ও ছাত্রের উপর নেমে এসেছে শাস্তির কোপ। তাদের অপরাধ? ভীষণ গুরুতর! শাসকদলের যুগ যুগ ধরে চেষ্টায় গড়ে তোলা আইন - নবাগত ছাত্রদের অবাধে Ragging করার অধিকার, সেটা ওই ৪ ছাত্র খর্ব করেছে। এই অপরাধ কি মেনে নেওয়া যায়? নৈব নৈব। সুতরাং যেন তেন প্রকারেণ সরিয়ে ফেলতে হবে পথের কাঁটা। তাই শাসকদলের ছাত্র সংগঠন TMCP আর কর্তৃপক্ষের মেরুদন্ডহীন একদল কলমচির ষড়যন্ত্রে কলেজ থেকে এরা বিতাড়িত, তাদের ডাক্তারী জীবন শেষ করে দিয়ে তাদের উচিত শিক্ষা দিতে চেয়েছে ! এমনই শিক্ষা দেবার ধূম, এত সদিচ্ছা উথলে উঠেছে, বহিষ্কারের কারণ পর্যন্ত উল্লেখ করতে মনে থাকেনি! (ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়েছে, কারণ তো কিছু নেই)। এরপর নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখেনা, এটা নিছক একটা Disciplinary action নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়নতার নগ্নতম পদক্ষেপ।
এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় কি? এখানেই প্রশ্ন জাগে নিজের কর্তব্যজ্ঞান, বিবেকের কাছে। আমার রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক, কিংবা আমি সমাজের শান্তি প্রিয়, রাজনীতি বিমুখ মানুষও যদি হই, বিনা কারণে একটা ডাক্তারি ছাত্রের জীবন নষ্ট হয়ে যাওয়া কি আমি সমর্থন করব? এই অন্যায় মেনে নেব? আবার আজ যদি আমি শুধু সহানুভূতি দেখিয়ে কিম্বা নৈতিক সমর্থন জানিয়ে, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ধ্বজা উড়িয়ে বসে থাকি, তাতেই বা লাভ কি? একটা দুষ্ট রাজনীতি তার গলা পচা নীতি নিয়ে, কর্তৃপক্ষকে ব্যবহার করে একটা অন্যায় যখন বিপরীত মতাবলম্বীদের উপর চাপিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর, নিস্ক্রিয়তা ও নিরপেক্ষতার অর্থ সেখানে অন্যায়কেই প্রশ্রয় প্রদান।
এই যে ক’জন ছাত্র, এরা আমাদের কারো ভাই, কারো জুনিয়ার, সিনিয়র বা কারো সহকর্মী। এরা একটা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে অন্যায় একটা ষড়যন্ত্রের শিকার। আজ মানুষ হিসাবে আমাদের আশু কর্তব্য তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের বহিষ্করণ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ। আমরা আজ যদি মতাদর্শ, নিরপেক্ষতা ইত্যাদির বেড়াজালে নিজেদের বিবেক সন্তর্পনে আড়াল করি, যদি ভয়-ভীতির আশঙ্কায় গুটিয়ে রাখি নিজের প্রকৃত মনোবাসনা, আমার কলিগের ডাক্তারী জীবন শেষ করে দেবার ষড়যন্ত্রে আমিও একজন অংশীদার হয়ে থাকব। চিরকাল ছোট হয়ে থাকব নিজের বিবেকের সামনে। ইতিহাস আমাদের কখনো ক্ষমা করবে না। আজকের সমস্যা জর্জর সমাজে দুদিন পর অবশ্যম্ভাবি রুপে নিজেদের উপর যখন আক্রমণ আসবে, পাশে দাঁড়ানোর জন্য কোন বিবেক বেঁচে থাকবে না।
আজকে এই লড়াই শুধু কিছু দাবী আদায় করার জন্য নয়, TMCPর বিরুদ্ধে All India DSOর আন্দোলন নয়, অন্যায়-অত্যাচার-অবিচার-জুলুমের বিরুদ্ধে মুক্ত মনন, স্বাধীন চেতনা, বিবেক মনূষ্যত্ব রক্ষার লড়াই। এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহনের জন্য তাই দলমত নির্বিশেষ গণতন্ত্র প্রেমী ছাত্রছাত্রী-ডাক্তার-নার্স-শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে আহ্বান জানাই।

No comments:
Post a Comment