Thursday, February 11, 2016

"বোকা বনে যাই বার বার শুধু বলি পায়ে পড়ি তোর প্রেমের গান টা বাজা"


"বোকা বনে যাই বার বার শুধু বলি পায়ে পড়ি তোর প্রেমের গান টা বাজা"
প্রেম নিয়ে অন্তরের মনে হওয়া গুলো লিখে ফেললাম...
একটা কথা খুব শোনা যায়, এই সময় টা নাকি ডিভোর্সের স্বর্ণযুগ। কিন্তু কেন? এই সময়ে দাঁড়িয়ে প্রেম একটা ক্রাইসিস এ পরিণত হয়েছে। আসলে আমরা(ছেলেদের কথা বললাম, মেয়েদের ক্ষেত্রে উল্টোগুলো ) চাই আমার প্রেমিকা যেন ভাল গান গাইতে পারে, তার ফিগার যেন হয় করিনা কাপুরের মত, ভালো নাচ জানুক আর যা যা ভালো তার মধ্যে থাক, কিন্তু আদেও তা কি সম্ভব বলুন তো? আসলে সে তো মানুষ। আর ভালো-খারাপ সবটা মিশিয়েই তো তার থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা আরো আরো বেটার অপশন খুঁজে বেড়াই। তার সবটা নিয়ে চলার কথা ভেবে উঠতে পারছি কই? আমি আমার দাদু-ঠাকুমার সময়কার একপেশে মানিয়ে চলার কথা বলছি না, কিন্তু একসাথে যাপনের সুতীব্র ইচ্ছা টা কোথাও গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে, বরং প্রেম হয়ে দাঁড়াচ্ছে বস্তুকেন্দ্রিক। কদিন আগেই খবরে দেখছিলাম অনুষ্কা-কোহলির ব্রেকাপের কারণ নাকি বিয়ে করার দিনক্ষ্ণ নিয়ে মতান্তর, আদেও কি সেটা সম্ভব?? আসলে প্রেম দিন কে দিন জামাকাপড় বদলানোর মত হয়ে পড়ছে। এর ফিগার ভালো, ওর গায়ের রঙ টা বেশ, তার গানটা ভালো লাগে। এতো মানুষটির গুণ গুলোকে ভালো লাগা, সেখানে রক্ত মাংসের মানুষটির উপস্থিতি কোথায়???
আমার অনেক বন্ধুই দেখি ডিসেম্বর থেকে টাকা জমায় ৭-১৪ ফেব্রুয়ারি সময়টায় বিভিন্ন দিনের খরচ চালানোর জন্য। আমি আমার প্রেমিক/প্রেমিকা কে ভালোবেসে উপহার দিতেই পারি। কিন্তু কোথাও গিয়ে প্রেমটি উপহার কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে না তো? প্রেম মানেই কি সিসি২ তে গিয়ে খাওয়াদাওয়া, ,ডিক্সো, ক্যাণ্ডেল লাইট ডিনার?? আসলে এই গুলোই তো বস্তু প্রেমের দিকে আমদের ঠেলে দেয়। যা আসলে কর্পোরেটের চাহিদা, আর তাই ১৪ফেব্রুয়ারী এত এত ডিস্কাউন্ট, এত এত উপহারের বিঙ্গাপন, যা প্রেমকে আসলে আরো পণ্যায়নের দিকে ঠেলে দেয়। প্রেমের অনুভূতি, সমাজের সব চোখ রাঙ্গানো কে থোড়াই কেয়ার না করে একসাথে বাঁচার প্রতির্স্পর্ধা-ই তো আসলে এই বস্তু প্রেমের গালে সপাটে চর মারতে পারে।
রিজিয়ানুরকে মরতে হয়েছিল অন্য ধর্মের মানুষের সাথে প্রেম করার জন্য, উত্তরপ্রদেশ সহ গোটা গো-বলয় জুড়ে জাতপাত দিয়ে প্রেম এর উপর আঘাত হানে। ভাবনা আর অভিষেক পরস্পরকে ভালবাসত। ভাবনাকে খুন হয়ে যেতে হয়েছিল। কারণ দু’জন ভিন্ন জাতের মানুষের মধ্যে নাকি প্রেম হতে নেই!
বাবলি আর মনোজ পরস্পরকে ভালবাসত। ওদের দু’জনকেই খুন হয়ে যেতে হয়েছিল। কারণ দু’জন সমকৌমের মানুষের মধ্যে নাকি প্রেম হতে নেই!
দানিস্তা আর সনু সিং পরস্পরকে ভালবাসত। ওদের দু’জনকেই খুন হয়ে যেতে হয়েছিল। কারণ দু’জন ভিন্নধর্মের মানুষের মধ্যে নাকি প্রেম হতে নেই!। এই সবের উল্টো দিকে দাঁড়িয়েও মানুষ আজো ভালোবাসে, গান গায়, হাত ধরে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।
প্রেম দিবস আসছে, তার পরদিনই খবরে গোটা দেশজুড়ে আরএসএস, এবভিপি, ভিএইচপি, শিবসেনার তাণ্ডব দেখা যাবে। কোথাও জোড় করে বিয়ে তো কোথায় প্রেম যুগলের মুখে কালি দিয়ে দেওয়া। তার সাথে ঘরওয়াপ্সি, লাভ জিহাদের তত্ত্ব তো আছেই। এই পোড়ার দেশে প্রেমের জন্যও অনেক কাঠ-খর পোড়াতে হয়। তবে যে দেশে এখনো রোহিত ভেমুলাদের আত্নহত্য্য করতে হয়, ইশরত জাহানদের জঙ্গি তকমা পেতে হয় সে দেশে এই ঘটনা অস্বাভাবিক নয় বলেই আমার মত।
এত গেলো অসমকাম প্রেমের কথা, কিন্ত যদি কেউ সমকামী একটি মেয়ে একটি মেয়েকে বা একটি ছেলকে ভালোবাসে, তাহলে?? আমদের সমাজে এই ঘটনা আজ অস্বাভাবিক। তাই তো অনেক লেসবিয়ান মেয়েকে "সুস্থ" করার জন্য রেপ করে তার পরিবারেই কেউ, বা নন্দীগ্রামে দুজন মেয়ে কে আত্মহত্যা করতে হয়।এই সমাজে এই ঘটনার নজির প্রচুর। "হিজড়ে"রা প্রেম করবে আর তা মেনে নেবো আমরা, তা হয় নাকি এই অসমকাম পুরুষতান্ত্রিক সমাজে????
প্রেমের গায়েও এই রক্ত ভাবলেও গা শিউরে ওঠে!!
কিন্তু এর উল্টোদিকের ভাবনাও সমাজে আছে। যা আমাদের স্বপ্ন দেখায়, ভালোবাসতে শেখায়....এই সব না পাওয়ার পৃথীবিতে আজও মানুষ ভালোবাসে, মুক্তি খোঁজে ভালোবাসায়...
আমরা যদি এই আকালেও স্বপ্ন দেখি কার তাতে কি?
এই আকালেও ' পরাগরেণু আপনি জাগে তোমায় ছুঁলে '...
ভালোবাসা বেঁচে থাকুক, বেঁচে থাকুক অনুভবে, আবেগে, হাতে হাতে রেখে রাস্তা হাঁটার ভরসায়, যাপনে......
১৪ই ফেব্রুয়ারী (রবিবার) বিকেল ৪-টে থেকে সন্ধ্যে ৭-টা আমরা থাকবো রানু-ছায়া মঞ্চে (অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এর সামনে)। তুমি/তোম্রা এস। প্রেম দিবস হয়ে উঠুক প্রতিবাদ দিবস, পুঁজিবাদের ঠিক করে দেওয়া প্রেমদিবস নয়, বরং ১৪ই ফেব্রুয়ারী বেঁচে থাক প্রেমের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার দিন হিসাবে......

No comments:

Post a Comment