Thursday, February 11, 2016

বিজেপি আরেসেস এরকম একটা টার্ম খুঁজে মার্কেটে নামিয়ে দিয়েছে, 'দেশদ্রোহী', একবার বলে দিলেই সমস্ত কোয়েশ্চেনের দি এন্ড. এমনিতেই দেশদ্রোহী ব্যাপারটা দেশপ্রেম এর সাথে খুব রিলেটেড ব্যাপার, আর দেশপ্রেম মানেই সেই ছোটবেলার সানি দেওল সেন্টিমেন্ট থেকে ১৫ই অগস্ট স্কুলের প্যারেড, আরে পাগলা, চোখ বুজে না গিলে যাবিটা কোথায়!


মার্কেটে কিছু কিছু শব্দ চলে, যেগুলোর পর আর কি, কেন, কোত্থেকে, কি কারণে এই প্রশ্নগুলো আর চলেইনা,এই যেমন ধরো বছর কয়েক আগে হঠাত করে মাওবাদী বললেই ব্যাস,অতএব ও যা করছে হেব্বি খারাপ করছে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে ফেলা যাচ্ছিল. মানে ধরো তুমি কৃষক কেন ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেনা এই নিয়ে মিছিল করলে, মিডিয়া থেকে সরকার, তোমাকে ট্যাগিয়ে দিল তুমি মাওবাদী, ব্যাস, ফসলের দাম, জল জঙ্গল জমির অধিকার, নিয়মগিরি, কি নিয়ে যেন কথা বলছিলে? ওসব তখন আর মনেই পড়বেনা,
বিজেপি আরেসেস এরকম একটা টার্ম খুঁজে মার্কেটে নামিয়ে দিয়েছে, 'দেশদ্রোহী', একবার বলে দিলেই সমস্ত কোয়েশ্চেনের দি এন্ড. এমনিতেই দেশদ্রোহী ব্যাপারটা দেশপ্রেম এর সাথে খুব রিলেটেড ব্যাপার, আর দেশপ্রেম মানেই সেই ছোটবেলার সানি দেওল সেন্টিমেন্ট থেকে ১৫ই অগস্ট স্কুলের প্যারেড, আরে পাগলা, চোখ বুজে না গিলে যাবিটা কোথায়!
আর বর্ডার দেখে চোখ ডলতে ডলতে বেরোনো দর্শক থেকে 'দেশের' শ্রমিকের টাকা মারা মালিক থেকে 'দেশের' কৃষকের ফসলের দাম মেরে দেওয়া দালাল থেকে ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচে উল্লাট দেশপ্রেম দেখিয়ে বেরিয়ে রিক্সাচালক ২০টাকা ভাড়া চাওয়ায় 'এরাই তো দেশটাকে চুরি করে নিচ্ছে' বলা গর্বিত দেশপ্রেমিক- দেশদ্রোহীর লজিক প্রত্যেকে দায়িত্ব নিয়ে ছড়ায়, সুরক্ষিত ভাবে.
তাই রোহিত ভেমুলার মৃত্যুর পর যখন এবিভিপি লিফলেট বের করে, তখন লেখে যে রোহিত এর নিজস্ব নানান কারণ ছিল, কিন্তু এই যে কিছু লোকজন মিলে ইয়াকুব মেননের ফাসির বিরোধিতা করছিল, এইটা তো পিওর দেশদ্রোহিতা. এইটা মোক্ষম দাওয়াই, এরপর আর কোনো কথাই ওঠেনা.JNUতে যখন আফজল গুরুর ফাসির বিরোধিতায় মিছিল হয়, তখনও মাঝে গিয়ে একটু পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলে চেঁচিয়ে এসে বুঝিয়ে দেয় এরা দেশদ্রোহী, পাকিস্তানের টাকায় ফান্ডিং,ব্যাস, মুখে কুলুপ এটে যেতে বাধ্য. তখন আফজল গুরু কে, ইয়াকুব মেনন কে, আদৌ ফাসির কেন ঠিক বিরোধিতা করা হচ্ছে এসব প্রশ্ন বর্ডার পেরিয়ে বেরিয়ে যাবেই.
ফ্রিডম অফ স্পিচ,ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন, গণতন্ত্র ইত্যাদির সমাধি দিয়ে দিই বরং, দেশদ্রোহী তকমার পর ওগুলোও আর কাজে লাগবেনা বিশ্বাস হচ্ছে.
আর একটা জিনিস এইবারে পরিষ্কার হয়েছে, আরেসএস কেন ব্রিটিশদের সাথে গিয়ে হাত মেলাত, কারণ দেশভক্তি মানে তো বেসিকালি দেশ যে চালায়, তার প্রতি ভক্তি,তা সে ব্রিটিশ হোক বা নরেন্দ্র মোদী; আর দেশের মানুষ, খেটে খাওযা জনতা, রোজ দুবেলা খেতে না পাওয়া জনতা, এসব যদি খবরদার বলেছ! নির্ঘাৎ শালা তুমি দেশদ্রোহী!
23 people like this.
Comments
Nibid Roy Chhoto belay jegulo ke pagoler prolaap vebe esechhi, ekhon dekhchhi kichhu manush sotti i segulo biswas kore. And MY problem is i have to deal with that to Not die. Wow. Horibol thing...
LikeReply53 mins
Palash Biswas
Write a comment...
Suswagata Poria
3 hrs
রোহিত ভেমুলা দেশদ্রোহী। JNU এর ছাত্র-ছাত্রীরা দেশদ্রোহী। এদিকওদিক হিসেবের বাইরে যারা কথা বলছে তারা সবাই 'দেশদ্রোহী', পাকিস্থানের দালাল। পাকিস্থানেও এরকম 'দেশদ্রোহী' আছে। তারা আবার সেখানে ভারতের দালাল।
আমি দেশপ্রেমিক কেনোনা আমি যখন বাড়িতে ঘুমোচ্ছিলাম তখন মিলিটারি সিয়াচেনে 'শত্রু'র সাথে লড়ছিল, নরেন্দ্র মোদি ছবি তুলছিল, বিরাট কোহলি ক্রিকেট খেলছিল। দেশ-প্রেমের প্রমাণ দিতে হয় না। দেশদ্রোহীতার দিতে হয়।
রুপোলি খড়ের বিচালী চিবোচ্ছে ছাগল। হাঁড়ী -কাঠ হাসছে।

No comments:

Post a Comment