Tuesday, May 10, 2016

কালকে এবিভিপি মিছিলে শুনলাম বানরেরা রবীন্দ্রনাথের ছবি হাতে লম্পঝম্প করছিল.. সাম্রদায়িকতার পূজারীগুলো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তাদের ঠাকুর বানানোর যে চেষ্টা করল তাতে কি কবির সমর্থন আছে....??...আর এস এস, বিজেপি, এ বি ভি পির সাম্রাজ্যবাদের তোষামতকারী যে ব্রাহ্মন্ন্যবাদী ফ্যাসিস্ট রাজনীতি কবিগুরু কি তাকে লালিত করেছেন, না সজোরে ধাক্কা দেওয়ার কথা বলেছেন, তা তাঁর সাহিত্য, লেখালেখি, চিন্তাভাবনার দিকে নজর দিলে সহজেই বোঝা যায়...

Sou Parno
কালকে এবিভিপি মিছিলে শুনলাম বানরেরা রবীন্দ্রনাথের ছবি হাতে লম্পঝম্প করছিল.. সাম্রদায়িকতার পূজারীগুলো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তাদের ঠাকুর বানানোর যে চেষ্টা করল তাতে কি কবির সমর্থন আছে....??...আর এস এস, বিজেপি, এ বি ভি পির সাম্রাজ্যবাদের তোষামতকারী যে ব্রাহ্মন্ন্যবাদী ফ্যাসিস্ট রাজনীতি কবিগুরু কি তাকে লালিত করেছেন, না সজোরে ধাক্কা দেওয়ার কথা বলেছেন, তা তাঁর সাহিত্য, লেখালেখি, চিন্তাভাবনার দিকে নজর দিলে সহজেই বোঝা যায়...
১. ‘বৈষ্ণব যেখানে বোষ্টম নয় সেখানে আমিও বৈষ্ণব, খৃষ্টান যেখানে খেষ্টান্‌ নয় সেখানে আমিও খৃষ্টান’।
‘... যেখানে মন্দিরের দেবতা মানুষের দেবতার প্রতিদ্বন্দ্বী, যেখানে দেবতার নামে মানুষ প্রবঞ্চিত সেখানে আমার মন ধৈর্য্য মানে না। ... দেশের লোকের শিক্ষার জন্যে অন্নের জন্যে, আরোগ্যের জন্যে এরা কিছু দিতে জানে না, অথচ নিজের অর্থ-সামর্থ্য সময় প্রীতি ভক্তি সবই দিচ্চে সেই বেদীমূলে যেখানে তা নিরর্থক হয়ে যাচ্চে। মানুষের প্রতি মানুষের এত নিরৌৎসুক্য, এত ঔদাসীন্য অন্য কোনো দেশেই নেই, এর প্রধান কারণ এই যে, এ দেশে হতভাগা মানুষের সমস্ত প্রাপ্য দেবতা নিচ্চেন হরণ করে। ...’
৩১ জৈষ্ঠ ১৩৩৮
‘আমার ঠাকুর মন্দিরেও নয়, প্রতিমাতেও নয়, বৈকুন্ঠেও নয়,—আমার ঠাকুর মানুষের মধ্যে—সেখানে ক্ষুধাতৃষ্ণা সত্য, পিত্তিও পড়ে, ঘুমেরও দরকার আছে—যে দেবতা স্বর্গের তাঁর মধ্যে এসব কিছুই সত্য নয়।’
এখানে কবির কাল্পনিক ঈশ্বরের বিপরীতে রক্তমাংসের মানুষকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ধর্মের নামে দরিদ্র ভারতের উপর যে শোষন তাকে তীব্র ভাষায় আক্রমন করার মাধ্যমে বস্তুবাদী চিন্তাভাবনা ফুটে উঠেছে যা বানর গুলোর ধর্ম সর্বস্ব চুলকানির বিপরীত...
২.হিন্দু নিজেকে ধর্মপ্রাণ বলে পরিচয় দেয়, মুসলমানও তাই দেয়। অর্থাৎ ধর্মের বাহিরে উভয়েরই জীবনের অতি অল্প অংশই অবশিষ্ট থাকে। এই কারণে এরা নিজ নিজ ধর্ম দ্বারাই পরস্পরকে ও জগতের অন্য সকলকে যথাসম্ভব দূরে ঠেকিয়ে রাখে। এই যে দূরত্বের ভেদ এরা নিজেদের চারিদিকে অত্যন্ত মজবুত করে গেঁথে রেখেছে, এতে করে সকল মানুষের সঙ্গে সত্যযোগে মনুষ্যত্বের যে প্রসার হয় তা এদের মধ্যে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’
"নানা উপলক্ষে এবং বিনা উপলক্ষে সর্বদা আমাদের পরস্পরের সঙ্গে ও সাক্ষাৎ আলাপ চাই। যদি আমরা পাশাপাশি চলি, কাছাকাছি আসি, তা হলেই দেখতে পাব, মানুষ বলেই মানুষকে আপন বলে মনে করা সহজ। যাদের সঙ্গে মেলামেশা নেই তাদের সম্বন্ধেই মত প্রভৃতির অনৈক্য অত্যন্ত কড়া হয়ে ওঠে, বড়ো হয়ে দেখা দেয়।"
এই কথা গুলোর মধ্য দিয়ে হিন্দু মুশলমান এক, মানুষ হিসাবেই তাদের পরিচয় এবং তাদের ঐক্যের মাধ্যমে সাম্প্রাদায়িকতার বিষ বাষ্প এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন.. অর্থাৎ আর এস এসের ঘৃন্য রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলেছেন...
৩.‘আমি বরঞ্চ সমাজের অশ্রদ্ধাভাজন হইতে রাজি আছি কিন্তু সমাজকে অশ্রদ্ধা করিতে সম্মত নহি। অব্রাহ্মণকে বেদীতে বসাইলে সমাজ অশ্রদ্ধা করিবে এ কথাকে শ্রদ্ধা করিলে সমাজকে অশ্রদ্ধা করা হয়। যুক্তিহীন অর্থহীন আচারই যে হিন্দু সমাজের প্রকৃতিগত এ কথাকে আমি শেষ পর্য্যন্তই অস্বীকার করিব। ... কোনমতে ব্রাহ্মণকে বেদীতে বসাইয়া দিলেই অদ্যকার হিন্দুসমাজ যদি আমাকে শ্রদ্ধা করে তবে সেই শ্রদ্ধা গ্রহণ করিয়া মানবসমাজের চিরকালীন সত্যধর্ম্মকে অশ্রদ্ধা করিতে পারিব না।'
এখানে কবি আবার ব্রাহ্মন্ন্যবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন,সেই ব্রাহ্মন্ন্যবাদ যা আজ আর এস এসের মূল রাজনীতি...
৪.১২৯২ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দে লেখা একটি ব্যঙ্গকৌতুকময় রচনার কিছুটা উদ্ধার করছি। ‘ডেঞে পিঁপড়ের মন্তব্য’ লেখাটিতে শুধু জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা নয়, ঔপনিবেশিকতার আসল চেহারাটিও যেন খুলে দেখাতে চাইছেন
‘... ওরা সব পিঁপড়ে, যাকে সংস্কৃত ভাষায় বলে পিপীলিকা। আমি হচ্ছি ডেঞে, সমুচ্চ ডাঁইবংশসম্ভূত, ঐ পিঁপড়েগুলোকে দেখলে আমার অত্যন্ত হাসি আসে। ... পিঁপড়েদের দেখে আমার অত্যন্ত মায়া হয়, ওদের উপকার করবার প্রবৃত্তি আমার অত্যন্ত বলবতী হয়ে ওঠে। এমন কি আমার ইচ্ছা করে, সভ্য ডেঞে সমাজ কিছুদিনের জন্য ছেড়ে, দলকে-দল ডেঞে ভ্রাতৃবৃন্দকে নিয়ে পিঁপড়েদের বাসার মধ্যে বাস স্থাপন করি এবং পিঁপড়ে সংস্কারকার্যে ব্রতী হই— ... তারা উন্নতি চায় না—তারা নিজের শর্করা নিজে খেতে এবং নিজের বিবরে নিজে বাস করতে চায়, তার কারণ তারা পিঁপড়ে, নিতান্তই পিঁপড়ে। কিন্তু আমরা যখন ডেঞে তখন আমরা তাদের উন্নতি দেবই, এবং তাদের শর্করা আমরা খাব ও তাদের বিবরে আমরা বাস করব—আমরা এবং আমাদের ভাইপো, ভাগ্নে, ভাইঝি ও শ্যালকবৃন্দ।’
রবীন্দ্রনাথের এই কথা আজও সত্য.. আজও সাম্রাজ্যবাদ আর ফ্যাসিবাদ আঁতাত করে চলছে...তাই এদের উভয়ের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে...
৫.‘আমার কথা ব্রাহ্মসমাজের কথা নয়, কোনো সম্প্রদায়ের কথা নয়, য়ুরোপ থেকে ধার-করা বুলি নয়। য়ুরোপকে আমার কথা শোনাই, বোঝে না; নিজের দেশ আরো কম বোঝে। অতএব আমাকে কোনো সম্প্রদায়ে বা কোনো দেশখণ্ডে বদ্ধ করে দেখো না। আমি যাঁকে পাবার প্রয়াস করি সেই মনের মানুষ সকল দেশের সকল মানুষের মনের মানুষ, তিনি স্বদেশ স্বজাতির উপরে। আমার এই অপরাধে যদি আমি স্বদেশের লোকের অস্পৃশ্য, সনাতনীদের চক্ষুশূল হই তবে এই আঘাত আমাকে স্বীকার করে নিতেই হবে’।
১২ আষাঢ় ১৩৩৮
‘সেই যুগান্তরের সময়ে যে যে গুহায় আমাদের আত্মীয়বিদ্বেষের মারগুলো লুকিয়ে আছে সেই সেই খানে খুব করেই খোঁচা খাবে। সেইটি আমাদের বিষম পরীক্ষার সময়। সে পরীক্ষা সমস্ত পৃথিবীর কাছে। এখন থেকে সর্বপ্রকারে প্রস্তুত থাকতে হবে যেন বিশ্বজগতের দৃষ্টির সামনে মূঢ়তায় বর্বরতায় আমাদের নূতন ইতিহাসের মুখে কালি না পড়ে।’
এখানে রবীন্দ্রনাথ মানুষে মানুষে ঐক্যের ভিত্তিতে, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পতন ঘটিয়ে নতুন ইতিহাসের রচনার পথে অগ্রসর হওয়ার ডাক দিয়েছেন....
যুগে যুগে ইতিহাসকে বিকৃত করে এই মানব খুনির দল নিজের উগ্র অস্তিত্ব তৈরীর চেষ্টা করেছে...এদের রুখে দিতে হবে.. আসুন ঘৃন্য আর বদ্ধ রাজনীতির বিরুদ্ধে মুক্ত চিন্তার অনুশীলন শুরু করি.....
লেখাটা খুবই বড়ো হয়েছে জানি, তবু বলছি একটু চেষ্টা করে পড়ে দেখতে পারেন ...😊...
আর বিশেষ ধন্যবাদPriyam Basuu কে... বলতে গেলে ওই লেখাটা লিখেছে..আমি শুধু টাইপ করেছি..😉

No comments:

Post a Comment